একটানা বৃষ্টি, মাথায় হাত আলু চাষীদের। আশঙ্কা আলু পচে যাওয়ার।

BENGAL Uncategorized

হুগলি, বুধবার,

স্থানীয় নিম্নচাপের কারণে এক টানা বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। টানা তিনদিন ধরে হওয়া বৃষ্টিতে মাথায় হাত চাষীদের। টানা বৃষ্টির কারণে জমিতেই আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা। এর ফলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন চাষীরা। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে হুগলি ও বর্ধমানে। আলু চাষের ক্ষেত্রে অগ্রণী জেলা হুগলি এবং বর্ধমান। এই দুই জেলাতেও মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে টানা তিনদিন ধরে। হুগলির সিঙ্গুর, হরিপাল, তারকেশ্বর এই তিন বিধানসভা এলাকায় সব থেকে বেশি আলু চাষ হয়। এখানেও বৃষ্টির ভালো দাপট দেখা গেছে। জল জমে গেছে আলু জমিতে। ফলে এই জল সরে যাওয়ার পর মাটি শুকিয়ে না গেলে আলু জমি থেকে তোলাও সম্ভব নয়। ফলে জমিতেই ফেলে রাখতে হবে আলু। এতে আলু আরও বেশি পচে যাওয়া বা দাগি হওয়ার সম্ভাবনা।

নির্ধারিত সময় মেনে আর এক সপ্তাহ থেকে 15 দিনের মধ্যেই জমি থেকে আলু তোলা শুরু হয়ে যেত। কিন্তু তার মধ্যেই এই বৃষ্টি “পাকা ধানে মই” দেওয়ার মত। তার কারণ এই বৃষ্টির ফলে আলু দাগি কিংবা পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। ফলে ফলন ভালো হলেও তার লাভ কতটা কৃষক নিজের ঘরে তুলতে পারবেন তাই নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।

আলুর গাছ ভালো হওয়ায় কৃষকরা ভেবেছিলেন এবারে ফলন অন্যান্যবারের থেকে অনেক বেশি হবে। স্বাভাবিক “আশায় মরে চাষা” স্বপ্ন দেখেছিল এবারে লাভের টাকা ঘরে তুলতে পারবে কিন্তু সবকিছুতে জল ঢেলে দিল বৃষ্টি।

হুগলির তারকেশ্বরে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এবারে আলুর ফলন ভালো হবে। তাই দাম অন্যান্য বারের থেকে কম হতে পারে। তাই আলু চাষীদের যাতে ক্ষতি না হয়, সে কারণে 10 লাখ মেট্রিক টন আলু কিনবে রাজ্য। কিন্তু একটানা বৃষ্টির ফলে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা যেমন থাকছে সঙ্গে আলুর ভালো দাম না পাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। দুই মিলিয়ে চাষীরা এখন চিন্তায় যে টাকা খরচ করে জমিতে আলু পুঁতে ছিলেন সেই টাকা ঘরে আনতে পারবেন কিনা তাই নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *